একজন জোকার- যে বদলে দিয়েছিলো ক্রিমিনালের ধারণা!!!

By | জানুয়ারী 11, 2018

জোকার , অপরাধ জগতের যুবরাজ, ব্যাটমেন এর যমদুত। তার বিখ্যাত হাসি, নিজেকে বিশৃঙ্খলার এজেন্ট স্বীকৃতদানকারী, আলখাল্লা পোষাক, তার ডায়ালগ সব কিছু দিয়েই ‘ব্যাট্মেন ডার্ক নাইট’ মুভিতে স্বয়ং খলনায়ক হয়েও উঠে এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া জোকার ডার্ক নাইট মুভিটির মাধ্যমে এখনও মুভি ক্রিটিক দের কাছে আলোচনার বিষয়

ব্যাট্মেন ডার্ক নাইট, ব্যাটমেন নিয়ে ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যটমেন সিরিজের ৩ টি পর্বের দ্বিতীয় পর্ব।

জোকার ডার্ক নাইট মুভির কেন্দ্রিয় চরিত্র

বলা হয়, জোকার ক্যারেক্টার সেট করার আগে, নোলান নিজেকে একটি  হোটেল রুমে ৩০ দিন বন্দী করে রেখেছিলেন।

টানা ৩০ দিন তিনি জোকার ক্যারেক্টার এর প্রতিটি ডায়ালগ এবং রূপরেখা সাজিয়ে নেন।

ডার্ক নাইট পুরো মুভিটিতে জোকারের অভিনয় এবং কাহিনী প্লট দর্শক কে এটা বোঝাতে সমর্থ হয়, ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ডার্ক নাইট’ একটি একক মাস্টারপিস।

ক্রিস্টোফার নোলান হিথ লেজার ডার্ক নাইট সিনেমা

ক্রিস্টোফার নোলান এবং হিথ লেজার(জোকার) ডার্ক নাইট মুভির সেট

হিথ লেজার

এখন আসা যাক জোকার ক্যারেক্টার এর ভিতরে। অভিনেতা ‘হিথ লেজার’ কে দেখা যায় জোকার ডার্ক নাইট মুভিতে।

হিথ লেজার সম্পর্কে বলে নেয়া ভালো, তিনি এমন একজন অভিনেতা ছিলেন যিনি, মাত্র আঠাশ বছর বয়সে মারা যান এবং মারা যাবার পরেই তিনি একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান যা তাকে সর্বকালের সেরা ভিলেইন এর খেতাব দেয়।

সত্যি কথা বলতে, ডার্ক নাইট সবাই দেখতে শুরু করে নায়ক ‘ক্রিসচিয়ান বেল’ বা ব্যাটমেন এর কারনে, কিন্তু মুভি শেষ করার পর সবার আইডল হয়ে যায় হিথ লেজার।

কি আছে এই হিথ লেজার এর অভিনয়ে, ক্রিস্টোফার নোলান যা ১ মাস যাবত লিখেছেন পৃথিবী থেকে নিজেকে আলাদা করে ?

এটা জানতে হলে আমাদের জানতে হবে জোকারের চিন্তার স্তর।

জোকার এক রহস্যময়ী চরিত্র

জোকার কোটি টাকা ব্যাংক ডাকাতি করে সেই কোটি টাকা আবার পুরিয়ে ফেলে শুধু সবাইকে বোঝাতে গোথাম সিটিতে ভিন্ন ধরণের ক্রিমিনাল দরকার যে, মানুষের ঘুম হারাম করবে এবং এটিও বঝাতে চায়, টাকাই সব কিছু না, ক্ষমতা হলো প্রধান।

ডার্ক নাইট সিনেমাতে হিথ লেজার এর ক্যারেক্টার পুরো সময়টুকু জুড়েই ছিলো রহস্যে ঘেরা।

"<yoastmark

ডার্ক নাইট মুভিতে হিথ লেজার দুনিয়াকে চিরাচরিত নিয়মের বাইরে কিছু শেখাতে চেয়েছিল।

মানুষ যেভাবে চিন্তা করে, তার বাইরে চিন্তা করা যায় এবং সেই চিন্তার লেভেল দাড়া করতে চেয়েছিল।

গোথাম সিটির সবচেয়ে ভালো মানুষ, হারভি ডেন্ট (ডিসট্রিক্ট কমিশনার) টাকে সে টার্গেট করে সবচেয়ে খারাপ বানানোর। তার উদ্দেশ্য ছিলো শুধু বোঝানো, মানুষ যে স্রোতে গা ভাসিয়ে জীবন চালাচ্ছে, তার বাইরে অনেক কিছুই বিদ্যমান ছিলো যা সকলকে চোখে ইঙ্গিত দিয়ে দেখানো যায়না।

জোকার এক মনস্তাত্ত্বিক সুপার ভিলেইন

জোকার চেয়েছিলো ক্ষমতা, দুনিয়াটাকে বদলাবার জন্যে। সে ব্যাটমেন কে ঘৃণা করতনা।

প্রকৃতপক্ষে, জোকার ব্যাটমেন কে খেলার একটা উপকরণ ভেবছিল যার মাধ্যমে সে টিকে থাকার আনন্দ পেত।

চিন্তার দিক দিয়ে ব্যাটমেন এবং জোকার দুই মেরুর।

একজন দেশপ্রেমিক যে জীবনের সবকিছু উজার করে দেয় দেশের স্বার্থে।

আরেকজন, নিজেকে প্রমাণ করার জন্যে শহরের সকল মানুষ কে নিয়ে সামাজিক পরীক্ষা চালায় শুধুমাত্র মানুষ কে নতুন চিন্তায় প্রভাবিত করার জন্যে।

জোকারের কাছে মানুষ ও সমাজের কোন দাম নেই। তার কাছে নিজের চিন্তা এবং চিন্তার প্রতিষ্ঠা ই মুখ্য।

ব্যাটমেন ডার্ক নাইট মুভি টা একমাত্র ‘সুপারহিরো’ টাইপ মুভি যেটাতে ‘সুপারহিরো’ কে নিয়ে আসা হয়েছে মানুষের স্তরে।

সুপারহিরো বা মহা মানুষ আসলে একজন সাধারণ মানুষ যে আমাদের মাঝেই বাস করে আমাদের শুধু ওদের খুজে নিতে হয়।

"<yoastmark

ক্রিস্টোফার নোলান এই পাগল ক্যারেক্টার টাকে নিয়ে এতোটাই ঘোরের মাঝে রেখেছেন যে, জোকার কোথা থেকে আসে, কি করে, পুরো ব্যাপারটাই ধোয়াটে।

এমন কি গোথাম সিটি (কমিক বই তে কাল্পনিক শহর) পুলিশের কাছেও নেই কোন রেকর্ড। ফলে অপরাধ করার পরেও তাকে ধরা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ক্রিস্টোফার নোলান হিথ লেজার কে দিয়ে নতুন কিছু দৃশ্যপট সাজিয়েছেন। যেমন মানুষ কে নিয়ে সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট করা ছিলো একটি খেলা যা হিথ লেজার পুরো মুভিটাতে অনেক বার করার চেষ্টা করে।

জোকার বদলে দেয় ক্রিমিনালের ধারণা

হিথ লেজার ডার্ক নাইট পর্বে তার চিন্তা দিয়ে বিজয়ী হয়। সে বোঝাতে পেরেছিলো সোসাইটিতে ভালো বলে কিছু নেই।

সবাই স্বার্থের গণ্ডীর মধ্যেই বিচরণকারী।

সমাজে একটি পাগল মারা গেলে কেউ খবর নেই না। কিন্তু একটা শহরের মেয়র মারা গেলে সবাই ঐ মরে যাওয়া পাগলটার মতই ব্যাবহার শুরু করে, যদিও পাগলটার পাগলামি সমাজের কারনেই সৃষ্ট।

"<yoastmark

অসম্ভব রকমের থ্রিল, সাসপেন্স এবং রহস্যে ভরা এই মূভিটা একবার দেখে পুরো ব্যাপারটা আয়ত্তে আনা কষ্টসাধ্য।

বিশেষ করে জোকারের ডায়ালগ গুলো, এতটাই গভীর যে চিন্তা না করে সেগুলো সম্প্রসারণ সম্ভব না।

একদম মেনশন না করলেই নয় এমন কিছু বিখ্যাত ডায়ালগ নিচে দেয়া হলো, আশা করি আবার যখন দেখবেন মিনিং গুলো ধরতে আগের চেয়ে সচেষ্ট হবেন।

  1. “I believe whatever doesn’t kill you simply makes you stranger”——Joker
  2. “If you are good at something, never do it for free”—–Joker
  3. “Introduce a little anarchy. Upset the established order and everything becomes CHAOS”——-Joker
  4. “A man with nothing to fear is a man with nothing to love”——Joker
  5. “Some man aren’t looking for anything logical, they can’t be bought, bullied, reasoned or negotiated with. Some men just want to watch the world BURN”——-By Alfred

Share This!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।